সংবাদ শিরোনাম: |
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় হতদরিদ্র ১২ জনের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের নামে ২ লাখ ১১ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সমুয়েল অধিকারী, যিনি গৈলা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সরকারি ঘর, গভীর নলকূপ এবং অন্যান্য সরকারি সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। বর্তমানে এই ঋণের পরিমাণ সুদসহ ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পরিশোধের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে সোনালী ব্যাংক গৈলা শাখা থেকে নোটিশ পেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগী পারুল সরকার, অমল মন্ডলসহ মোট ১২ জন গত ১৩ মে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারিহা তানজিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, সমুয়েল অধিকারী তাদের নামে 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ'-এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে এই ঋণ উত্তোলন করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র এবং এই বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। পুলিশি হয়রানির ভয়ে তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক গৈলা শাখার ম্যানেজার রতন চন্দ্র দে জানান, ব্যাংকের রেকর্ডপত্রে ঋণ গ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী
খেলাপি ঋণের নোটিশ দিয়েছেন এবং কয়েকজন ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।অন্যদিকে, অভিযুক্ত সমুয়েল অধিকারী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র। তিনি স্বীকার করেন যে ঋণগ্রহীতারা তার গ্রামের মানুষ এবং তারা 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ'-এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, কিন্তু এই বিষয়ে তিনি আর কিছুই জানেন না।ইউএনও ফারিহা তানজিন জানিয়েছেন, আইনগতভাবে যাদের নামে ঋণ করা হয়েছে, তাদেরকেই টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে, এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় থাকলে তা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য বিষয়টি গৈলা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন।